মেনু নির্বাচন করুন

ভূমি উন্নয়ন কর ও বিভিন্ন ফি

জমি মানেই জম। গ্রামাঞ্চলের মানুষের মধ্যে এ ধরনের কুসংস্কার প্রায় লক্ষ করা যায়। তবে যারা জমি নিয়ে ঘাটাঘাটি করেন তাদের কাছে বিষয়টি তেমন জটিল বলে মনে হয় না। চলুন জেনে নেয়া যাক ভূমি উন্নয়ন কর : করণীয় বিষয়ে দরকারী কিছু বিষয়।  
 
প্রাচীন কাল থেকেই কৃষকরা জমির খাজনা প্রদান করতেন। মাধ্যম ছিল অর্থ অথবা উৎপাদিত ফসল। ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত খাজনার সঙ্গে শিক্ষা খাতের জন্য টাকা আদায় করা হতো। ফলে ওই সময়ের শিক্ষিতরা গরীব কৃষকের টাকায় লেখাপড়া করেছেন-বলে দাবী করা হয়। ১৯৭৬ সালে ‘ভূমি উন্নয়ন কর অধ্যাদেশ’ এর মাধ্যমে খাজনা শব্দটি বাদ পড়ে যায়। বর্তমানে খাজনাই হলো- ভূমি উন্নয়ন কর। এতে অন্যকোন সেস বা আবওয়াব বা নজরানা আদায় করা হয়না। বাংলা সনের ভিত্তিতে ভূমি উন্নয়ন কর আদায় করা হয়। তিন বছর পর্যন্ত অগ্রিম ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান করা যায়।

ভূমি উন্নয়ন কর কি?
কোনো জমি ভোগ দখলের সুবিধা গ্রহণের জন্য সরকারকে প্রতি শতাংশ জমির জন্য বছর ভিত্তিক যে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা প্রদান করতে হয় তাকেই ভূমি উন্নয়ন কর বলে। ভূমি উন্নয়ন কর দেয়ার পর দাতা দাখিলা পাওয়ার অধিকার লাভ করেন। দাখিলা দেয়া না হলে তা অধ্যাদেশের লংঘন হবে। এই দাখিলা জমির মালিকানা প্রমাণের গুরুত্বপূর্ণ দলিল।

ভূমি উন্নয়ন কর বকেয়া হলে কি করবেন?
অনেকেরই ভূমি উন্নয়ন কর বকেয়া পড়ে থাকে। এক্ষেত্রে একটি ভুল ধারণা রয়েছে- তিন বছরের বেশি বকেয়া বাকী থাকলে তা আদায় করা যায়না। আসলে তা ঠিক নয়। বিধিমালা এ বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছে। তবে তিন বছরের মধ্যেই আদায়ের জন্য রেন্ট সার্টিফিকেট মামলা দায়ের করতে হয়। এই মামলার মাধ্যমেই জমি নিলামে বিক্রি করা হয়। কোন ক্রেতা পাওয়া না গেলে সরকার এক টাকা দিয়ে এ জমি কিনে খাসজমিতে পরিণত করে তা ভূমিহীনদের মধ্যে বন্দোবস্ত দিতে পারে। এ কারণে প্রতি বছরই ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করা উচিত। তবে বকেয়া পড়ে গেলে যেই বছর হতে কর বকেয়া রয়েছে তা ওই বছরের হার অনুযায়ী আদায় করতে হবে। এক্ষেত্রে ৬.২৫ ভাগ সুদ জ্যামিতিক হারে যোগ করতে হবে।

ভূমিকরের হার
বাংলা ১৩৭৮ সনে স্বাধীনতা অর্জিত হলে আগের অনাদায়ী সকল খাজনা মওকুফ করে বাংলা ১৩৭৯ সন থেকে খাজনা ধার্য করা হয়। বাংলা ১৩৮২ সন পর্যন্ত কোন পরিবারের ২৫ বিঘা বা ৮.২৫ একর এর উর্দ্ধে জমির জন্য খাজনা ও শিক্ষা কর ছিল। ২৫ বিঘার কম জমির জন্য শুধু শিক্ষা কর দিতে হতো।  

বাংলা ১৩৮৩ সন (১৯৭৬ সাল) থেকে বাংলা ১৩৮৮ সন পর্যন্ত ২৫ বিঘা পর্যন্ত বিঘা প্রতি (৩৩ শতাংশ) এর জন্য ৯০ পয়সা এবং ২৫ বিঘার উর্দ্ধে বিঘা প্রতি ৫ টাকা খাজনা ছিল। বাংলা ১৩৮৯ সন থেকে বাংলা ১৩৯৩ সন পর্যন্ত ২ একর জমির জন্য শতাংশ প্রতি ৩ পয়সা, ২ একর থেকে ৫ একর পর্যন্ত জমির জন্য প্রথম দুই একরের জন্য ৬ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি শতাংশের জন্য ১৫ পয়সা। ৫ একর থেকে ১০ একর পর্যন্ত জমির জন্য প্রথম ৫ একরের জন্য ৫১ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি শতাংশের জন্য ৩৬ পয়সা। ১০ একর হতে ১৫ একর পর্যন্ত প্রথম ১০ একরের জন্য ২৩১ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি শতাংশের জন্য ৬০ পয়সা। ১৫ একর থেকে ২৫ একর পর্যন্ত  প্রথম ১৫ একরের জন্য ৫৩১ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি শতাংশের জন্য ৬০ পয়সা। ২৫ একরের উপর হলে প্রথম ২৫ একরের জন্য ১৪৮১ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি শতাংশের জন্য ১ টাকা ৪৫ পয়সা।