মেনু নির্বাচন করুন

ভাষা ও সংস্কৃতি

মেলা, রথ, লোকশিল্প ও চারুকলা

 

চাঁদপুর জেলার মেলাসমূহ

বাঙালি জাতির অনেক উৎসব আয়োজনের সঙ্গে মিশে আছে মেলা বা আড়ং- এর ঐতিহ্য। চাঁদপুরেও বেশ কিছু প্রাচীন ও স্বাধীনতাত্তোর কালে সৃষ্ট মেলার অস্তিত্ব পাওয়া যায়। উপজেলা ভিত্তিক উল্লেখযোগ্য মেলাসমূহের বর্ণনা নিম্নে দেওয়া হলোঃ

চাঁদপুর সদর

মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা:বিজয় দিবসকে চির স্মরনীয় করে রাখার জন্য চাঁদপুর হাসান আলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সম্মুখস্থ হাসান আলী সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার আয়োজন করা হয়। এ মেলা হয় প্রতিবছর ডিসেম্বর মাসের ১ম সপ্তাহে আরম্ভ হয়। চলে এক মাস। ১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর চাঁদপুর শহর পাকবাহিনী মুক্ত হয়। ১৯৯২ সালে ৮ ডিসেম্বর বিজয় মেলা আরম্ভ হয়। মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলায় মুক্তিযুদ্ধে বীরত্ব রাখা এবং বিশিষ্ট বিদগ্ধ ব্যক্তিদের আমন্ত্রণজানানো হয়। তাঁরা মেলায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেন এবং মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ইতিহাস জনসমক্ষে তুলে ধরেন। মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলায় শিশু খেলনা হতে আরম্ভ করে মহিলাদের বিভিন্ন তৈজসপত্রসহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী পাওয়া যায়। প্রতিবছর সেপ্টেম্বর, অক্টোবর মাসে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার নতুন কমিটি গঠন করা হয়। বিজয় মেলা কমিটিই এ মেলার আয়োজক। মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা কমিটির ১ম আহবায়ক ছিলেন যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব এম, এ ওয়াদুদ, জেলা কমান্ডার এবং ২০১১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার আহবায়ক ছিলেন এডভোকেট জনাব আব্দুল লতিফ গাজী। মেলার মঞ্চে প্রতিদিন আলোচনা সভা ও মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। জেলার সকল সাংস্কৃতিক সংগঠন এসকল অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে থাকে।

বাবুর হাটের বৈশাখী মেলা ঃচাঁদপুর সদর উপজেলার বাবুরহাট বাজারে স্বল্প পরিসরে প্রতিবছর বৈশাখী মেলা বসে। এটি স্বতঃস্ফুর্ত মেলা।

বড় ষ্টেশন মোল হেড চত্তরের ১লা বৈশাখের অনুষ্ঠান ও মেলা ঃ২০১০ ইংরেজি মোতাবেক ১৪১৭ বাংলা সনের ১লা বৈশাখ জেলা প্রশাসক জনাব প্রিয়তোষ সাহার উদ্যোগে চাঁদপুরে সর্বপ্রথম বৃহত্তর কলেবরে বড় ষ্টেশন মোল হেড চত্ত্বরে উদযাপন করা শুরু হয়। প্রথমে সাংস্কৃতিক সংগঠসমূহের মৃদু বিরোধীতা থাকলেও জেলা প্রশাসক জনাব সাহার প্রচেষ্টায় সকলের ঐকমতেই চাঁদপুর হাসান আলী মাঠ থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালীসহ মোল হেড চত্ত্বরে গিয়ে ১লা বৈশাখের আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়। এ বৈশাখী অনুষ্ঠানকে উপলক্ষ্য করে জেলা প্রশাসক জনাব প্রিয়তোষ সাহা, পুলিশ সুপার জনাব   মুহাম্মদ  শহিদুল্যাহ চৌধুরী, পিপিএম এবং চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র জনাব নাসির উদ্দিন আহমেদ এর নেতৃত্বে মোল হেডটি অবৈধ দখল মুক্ত হয়। মেয়র জনাব নাসির উদ্দিন আহমেদ ১লা বৈশাখের অনুষ্ঠানে মঞ্চ, মাইক ও প্যান্ডেলের ব্যবস্থা করেন এবং জেলা প্রশাসক অন্যান্য সকল আয়োজন করে থাকেন। জেলা প্রশাসক ১লা বৈশাখ উপলক্ষে প্রায় চার-পাঁচ হাজার মানুষকে মঞ্চের অদূরে অবস্থিত রেলওয়ে রেস্ট হাউসে পান্থা ইলিশ খাওয়ানোর ব্যবস্থা নেন। এ অনুষ্ঠানে সেলফোন কোম্পানি ‘‘রবি’’ সহযোগিতা করে। এ পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানকে ঘিরে ১৪১৭ বাংলা সন থেকে মোল হেড চত্ত্বরে মেলা বসছে। ঐ দিন চাঁদপুর ও তার আশপাশের এলাকা থেকে হাজার হাজার নারী পুরুষ অনুষ্ঠানে ও মেলায় যোগ দেয়। মেলায় খেলনা, পিঠা ও হ্যান্ডি ক্রাফট, খাদ্য সামগ্রী ইত্যাদি পাওয়া যায়।

মেলা উপলক্ষে একটি আকর্ষনীয় র‌্যাফেল ড্র হয়। মেলা মঞ্চে সকল সাংস্কৃতিক সংগঠন সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান করে থাকে। ১৪১৮ সনের মধ্যরাতে উদিচি কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠান ‘ইতিহাস কথা কও’ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলা প্রশাসকসহ শিল্পী কলা কৌসুলী ও দর্শক শ্রোতারা প্রবল ঝড়ের মুখে পড়েন। কোন ক্ষয় ক্ষতি না হলেও আতঙ্কের সৃষ্টি হয় এবং প্যান্ডেল ও মঞ্চ তছনছ হয়ে যায়।